খানসামায় অপো রানী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

মো. আজিজার রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ-

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ইপিজেড কর্মী অপো রানী রায়ের (২৩) ধর্ষণ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় খানসামা উপজেলা পরিষদ প্রধান ফটকের সামনে টংগুয়া কুমারপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে উপজেলার হাজারো নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী,ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত মানববন্ধনের বক্তব্য রাখেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন,দিনাজপুর জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রতন সিং,খানসামা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান চন্দ্র দাস,ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরায়না বেগম নুরী, সাবেক ইউপি সদস্য শ্রী মানিক চন্দ্র সরকারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানববন্ধনে অংশ নেয়া বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বক্তারা বলেন, অপো রানী হত্যাকাণ্ডের আজ ২২ দিন অতিবাহিত হলেও খানসামা থানা পুলিশ এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বরং তারা এটাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা চালাচ্ছেন। এটা খানসামা উপজেলাবাসীর জন্য অত্যান্ত লজ্জাজনক। আমরা আজকে এই মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আপনারা এই হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা না দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। আর তা না হলে আমরা এই রাজপথ ছেড়ে দেবো না। এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যে বিভিন্ন স্লোগানে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ফাঁসির দাবী জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে ধান ক্ষেতে দুই কন্যা সন্তানের জননী অপো রানী রায়ের লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় পথচারীরা দেখতে পায়। পাশেই নিহতের সাথে ১০ বছরের মেয়ে বিপাশা রাণী রায়কে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পায় ৷ পরে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আর অজ্ঞান শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.