দ্বিগুণ’ টাকা দিয়েও মিলছে না এমওপি সার।

ইয়াছিন আলী ইমন
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

আমন মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট দেখা দিয়েছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের দোকানগুলোতে মিলছে না এমওপি সার। ডিলারদের কাছে কিছু পাওয়া গেলেও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে। এছাড়াও তরতরিয়ে বেড়েছে ইউরিয়া সারের মূল্য। সবকিছু মিলিয়ে আমন আবাদে বাড়তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়েছে কৃষকদের কপালে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাত ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, উফশী ৯৪ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ১২ হাজার ৭০০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫ টন। এবার ৫ লাখ ৮ হাজার ৪৯৩ জন কৃষক আমন চাষে যুক্ত হয়েছেন।আমন চাষাবাদে এবার ইউরিয়া সারের চাহিদা ৯২ হাজার ৩০৬ টন। টিএসপি ২২ হাজার ৮৭১ টন, ডিএপি ৪৩ হাজার ৪৩৩ টন, এমওপি ৫২ হাজার ১৯৫ টন, জিপসাম ৩৬ হাজার ৪৭২ টন। এর মধ্যে জেলায় ইউরিয়া সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৫৫ হাজার ২ টন, টিএসপি ১০ হাজার ৪৪৬ টন, ডিএপি ১৫ হাজার ৪৫৭ টন, এমওপি ২৩ হাজার ৮৮৭ টন এবং জিপসাম ১৪ হাজার ৬৫৬ টন। সবমিলে বরাদ্দ চাহিদার অর্ধেক। এ সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দামের দেড় থেকে দুই গুণ মূল্যে কৃষকের কাছে সার বিক্রি করছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা।বিশেষ করে এমওপি সার বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে। খুচরা বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার সরকারের দেওয়া নির্ধারিত দাম ৭শ টাকা হলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১৪৫০শ’ থেকে ১৫৫০শ’ টাকা দরে। অনেক সময় সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিএপিতে বস্তাপ্রতি দাম বাড়িয়েছে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা। শুধুমাত্র ইউরিয়া বাদে অন্যান্য সব ধরনের সারে মূল্য বৃদ্ধি করেছে ব্যবসায়ীরা।কুড়িগ্রাম জেলা সার সমিতির (বিসিআইসি) সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম মন্ডল জানান, মাসের প্রথম দিকেই নন-ইউরিয়া সার শেষ হয়ে গেছে। ৯৪ জন ডিলার তাদের চাহিদার মাত্র ৩০ ভাগ সার বরাদ্দ পায়। এ কারণে খুচরা বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পটাশ সারের প্রতি বস্তা খুচরা মূল্য ৭৫০ টাকা, টিএসপি ১১০০ টাকা আর ডিএপি ৮০০ টাকা। আমাদের ডিলারদের শনিবার মিটিং হয়েছে, কেউ যেন বেশি দামে সার বিক্রি না করে। মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুচরা বিক্রেতারা সার সংকটের সুযোগ নিচ্ছে। এটা মনিটরিং করার দায়িত্ব সরকারের। জেলা বিএডিসি সার সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলায় তাদের ডিলারের সংখ্যা ১৬২ জন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ডিলার প্রতি বরাদ্দ পেয়েছেন পটাশ ১০৭ বস্তা, টিএসপি ৫৯ বস্তা এবং ডিএপি ৫৬ বস্তা; যা এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়। ডিলাররা গড়ে পটাশ প্রতি বস্তা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, টিএসপি প্রতি বস্তা ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং ডিএপি প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেন।
নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার গ্রামের কৃষক ইনসাব আলী বলেন, পটাশ (এমওপি) সার পাওয়া যাচ্ছে না। ৭৫০ টাকার বস্তা ১৬শ টাকায় মিলছে না।
রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ী এলাকার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, তিন দিন বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরেও এমওপি সার পাইলাম না।একই এলাকার জসমত আলী জানান, অনেক খুঁজে পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ী বাজার থেকে ১৪শ টাকায় এক বস্তা পটাশ সার কিনলাম। এত দাম বাড়লে কৃষক চলবে কিভাবে।নাগেশ্বরী কচাকাটা বাজারে কেদার ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স কাশেম ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিগুণ দামে এমওপি সার বিক্রি করছেন। এখানে ডিলারের নিযুক্ত ব্যক্তি সাইদুল ইসলাম জানান, পরিবহন ও ক্রয় মূল্য বেশি হওয়ায় কিছুটা বেশি নিতে হয়েছে।কচাকাটা বাজার এলাকার কৃষক জসিম মিয়া বলেন, ইউরিয়া সারের ধারার (৫ কেজি) দাম ছিল ৮৫ টাকা, এখন সেটা ১২০ টাকা। এমওপি (পটাশ) সার ধারা ছিল ৮৫-৯০ টাকা এখন সেটা ১৪০ টাকায়। ডিওপি সার ধারা ছিল ৯০ টাকা এখন ১৪০ টাকা। এভাবে চললে আমরা কৃষক কী করি বাঁচব?
সার্বিক বিষয় নিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক শামসুদ্দিন মিঞা জানান, চাহিদার তুলনায় সারের কম বরাদ্দ পাওয়ায় কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট কিছুদিনের মধ্যেই কেটে যাবে। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *