শাহজাতপুর গ্রামের চার শত বছরের পুরানো মসজিদ সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তির পথে।

মোঃখালিদ হোসেন।
স্টাফ রিপোটার্র,পাইকগাছা,খুলনা।

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহাজাতপুর গ্রামে অবস্থিত ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ সংস্কারের অভাবে প্রায় বিলুপ্তির পথে। মসজিদটিকে ঘিরে লোকমুখে চালু রয়েছে বিভিন্ন কথা। তবে বর্তমান প্রজন্ম বা এর আগের কয়েক প্রজন্মের কেউ মসজিদটিতে কোনও মানুষের নামাজ পড়ার কোনও দৃশ্য দেখেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গ্রামটি এক সময় জঙ্গল ছিল। কোথাও কোন জনবসতি ছিল না এখানে। পরবর্তীতে হাপুশাহ্ ও টাপুশাহ্ নামের দুইজন বুজুর্গের আগমন ঘটে এই উপকূলে।

স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা মতে,দুই বুজুর্গের আগমনের পর এই জঙ্গলে একটি মসজিদ ‍তৈরি হয়। সেখানে তারা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতেন। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে লোকজনের যাতায়াত শুরু হয় এবং বুজুর্গদের নেতৃত্বে জনবসতি গড়ে ওঠে।পরবর্তীতে তাদের নামের ‘শাহ্’ অংশ অনুসারে জনপদের নাম রাখা হয় শাহজাদপুর।

৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদের স্তম্ভটি চুন-সুরকি ও ছোট ছোট ইটে তৈরি। এতে একটি গম্বুজ, চারটি স্তম্ভ, একটি দরজা ও দুটি জানালা রয়েছে।

স্থানীয় মুজিবুর রহমান মোড়ল জানান, বংশ পরম্পরায় মুখোগল্পে শুনে এসেছি, এখানে এক সময় নামাজ হতো, তবে আমার পূর্ব পুরুষদের কেউ এখানে কাউকে নিজ চোখে নামাজ পড়তে দেখেনি।

স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা মতে, দুই বুজুর্গের আগমনের পর এই জঙ্গলে একটি মসজিদ ‍তৈরি হয়। সেখানে তারা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতেন। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে লোকজনের যাতায়াত শুরু হয় এবং বুজুর্গদের নেতৃত্বে জনবসতি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের নামের ‘শাহ্’ অংশ অনুসারে জনপদের নাম রাখা হয় শাহজাদপুর।
বজলুর রহমান মোড়ল নামের আরেকজন জানান, দাদাদের মুখে গল্প শুনেছি কোনও এক সময়ে এখানে খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতি ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনকে ঘিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হতো।

স্থানীয় বাহুদ্দীন মোড়ল জানান, দাদাদের মুখে গল্প শুনেছি, সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলটি একটি দ্বীপ ছিল। তৎকালীন সময়ে দুইজন বুজুর্গ এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। তাদের নামে গ্রামের নাম হয় শাহজাদপুর। আমার বাবা, দাদারাও বাবা-চাচাদের কাছ থেকে একি গল্প শুনে এসেছেন। তবে কেউ কখনও এখানে কাউকে নামাজ পড়তে দেখেননি।

তিনি জানান, সংস্কারের অভাবে মসজিদটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যথাযথ পরিচর্যা করলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও গল্পটি জমা হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.