আজ বিকাল ৪ টায় খুলনা মহাসেন জুট মিল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

আজ ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পূর্বঘোষিত অনুযায়ী খুলনা শিরোমনি মহসেন জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষে এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনার মহসেন জুটমিল দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ বন্ধ থাকলে ও পাওনা আদায় করতে বিভিন্ন সময় শ্রমিকরা একত্রিত ভাবে আন্দোলন করলেও তার কোন ফলপ্রসূ লাভ হয়নি।
বরং গত ৯ বছরের মধ্যে মহাসেন জুটমিলের বেতন বঞ্চিত ৮২ জন শ্রমিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে মৃত্যুবরণ করেছে।

তবুও মহাসিন জুটমিলের মালিকের একটুও হৃদয় কাঁপেনি এই অসহায় শ্রমিকদের জন্য।
এবং তাদের পরিবার-পরিজন কোন হালে দিনাতিপাত করছে তাদের খোজ খবর পর্যন্ত নেয়নি মহাসেন জুট মিলের মালিক।

আন্দোলনরত শ্রমিক তথা সাধারণ মানুষদের মুখের কথা
একসময়কার বহুল আলোচিত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুলনা পরিচিত ছিল শিল্পনগরী খুলনা হিসেবে।
আরএই খুলনা শহর তথা আশপাশ ঘিরে ছিল বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান।
যেমন খুলনা রূপসা নদীর কোল ঘেঁষে ছিল খুলনার অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি। আর হাজারো শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা ও পদচারণায় মুখরিত ছিল দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি নগরীর চানমারি এলাকা।

এদিকে ছিল খুলনা নিউমার্কেট সংলগ্ন টেক্সটাইল মিল হার্ডবোর্ড মিল ছাড়া ও রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাজাক্স জুটমিল মহসেন জুটমিলওহাব জুট মিল সোনালি জুট মিল ছাড়া আরো অনেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

আর এ সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলিতে ৩০থেকে ৩৫ হাজার শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ।

তবে কালের পরিবর্তনে ৯০ দশকের পর থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হতে থাকে খুলনা শিল্পনগরীর এক এক করে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

তার মধ্যে সর্বপ্রথম বন্ধ হয় খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এবং বস্ত্র শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠান টেক্সটাইল মিল। এক এক করে সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে খুলনা এখন ব্যবসায়ী দিক থেকে রুগ্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এবং কর্ম হারিয়ে বেকার জীবনে নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পরিবার।
অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কর্ম হারানো অসংখ্য শ্রমিকদের জীবন।

তবে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল বন্ধ হলেও শ্রমিকদের আন্দোলন এবং বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এর সহযোগিতায় সকল পাওনা আদায় করতে সক্ষম হলেও।
অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকরা এখনো তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

তারই জের ধরে আজ খুলনা শিরোমনি শিল্পাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানাধীন মহসেন জুট মিল শ্রমিক কর্মচারীদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৪ টায় মহসেন জুটমিল গেট সংলগ্ন জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি পাট সুতা বস্ত্র কল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় সভায় বক্তৃতা করেন বেসরকারি পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল খান শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইগ্গিল কাজী
মিলের শ্রমিক বীরমুক্তিযোদ্ধা ক্বারী মোঃ শাহাব উদ্দিন বীর মুক্তিযুদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন বীর মুক্তিযুদ্ধা ইব্রাহিম কাগজী মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন সেকেন্দার আলী ওবায়দুর রহমান মোঃ বাবুল আমির মুন্সী মোহাম্মদ কেসমত আলী আলাউদ্দিন ৩৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ আলমগীর প্রমুখ ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন মহসেন জুট মিলের মালিক দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে মিলের কতিপয় দালাল সিবিএ নেতাদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে।
চলতি সপ্তাহের ভিতরে শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা পরিষদে করা না হলে কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এছাড়া আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টায় খুলনা শেরেবাংলা রোডস্থ মহসেন জুট মিল মালিক এর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন মিল বন্ধ হওয়ার পর থেকে ৮২ জন শ্রমিক তাদের টাকা মিল মালিকের নিকট পাওনা থাকা সত্ত্বেও বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে। তাছাড়া আরও কিছু শ্রমিক আছে যারা অসুস্থ এবং অসহায় অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছে।
তাই এবার মালিকের নিকট থেকে পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে সভাশেষে শিরোমনি শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.