বঙ্গোব সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত নিম্ন অঞ্চল !!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

সপ্তাহজুড়ে মুষলধারা বৃষ্টি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দিয়েছে (৩ নম্বর) সতর্ক সংকেত।
উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা মৎস্য ঘের।
ক্ষতির সম্মুখীন শহর কেন্দ্রিক দৈনন্দিন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টি হলেও কমছে না ভ্যাপসা গরম। অপরদিকে আমন ধান চাষিদের মুখে বৃষ্টির পানিতে ফুটেছে উজ্জ্বল হাসি।

পাট চাষিদেরও লাগাতার মুষলধারা বৃষ্টি পেয়ে স্বস্তিতে সোনালী স্বপ্ন।
বৃষ্টি ও সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা কেজিতে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস চলমান আবহাওয়া লাগাতার বিরামহীন বৃষ্টি থাকার সম্ভাবনা চলতি সপ্তাহ সহ আগামী সোম মঙ্গলবার পর্যন্ত জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে গত এক সপ্তাহ যাবৎ বঙ্গোপসাগর ও নদী বন্দর উপকূলীয় এলাকা তথা খুলনা সাতক্ষীরা কয়রা মোংলা বাগেরহাট রামপাল এলাকা জুড়ে লাগাতার বৃষ্টি হলেও কমছেনা ভ্যাপসা গরম গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার কারণে শহরকেন্দ্রীক দৈনন্দিন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের একটু সমস্যা হলেও উপকৃত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগ খুলনা অঞ্চলের আমন ধান চাষীরা। পাশাপাশি পাটের ক্ষেত্রেও প্রচন্ড উপকার হবে বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আজিজুল মিয়া বলেন চলতি বছর বৃষ্টির অভাবে পানি না থাকার কারণে এ এলাকার ডোবা-নালা পুকুর শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাওয়াতে ঠিকমতন
পাট পচানোর জন্য জাগ দিতে পারেনাই পাট চাষীরা।

এদিকে আবার বাজারে পাটের মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে গভীর চিন্তার মধ্যে রয়েছে পাট চাষীরা।
সাথে স্বল্প বৃষ্টি ও পানি সংকটের কারণে আমন ধান চাষীরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন ধান চাষ করে উপার্জনে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে না যার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমন ধান চাষীরা।

বর্তমান পূর্ণিমা জোঘাড় গোণ থাকার কারণে সমুদ্র গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়াতে নদী বন্দর এলাকার কিছু নিন্মান্চলে পানিতে প্লাবিত হলেও সেটা সাময়িক সময়ের জন্য বললেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

তিনি আরো বলেন দেশের অন্যতম অর্থকারী ফসল আমন ধান ও সোনালী আঁশ পাট এর ক্ষেত্রে উপকৃত হচ্ছে এই মুষলধারা বৃষ্টি হওয়াতে।

কারণ বৃষ্টি না হলে সেচের মাধ্যমে ডিজেল পুড়িয়ে পানির সংগ্রহ করে ধান রোপন করতে গেলে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পেত দ্বিগুণ।
আর সময় মতন পাট পানিতে পচন না দিতে পারলে ধ্বংস হয়ে যেত কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন।

এদিকে আবার খুলনার বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদরা বলছেন এই সময়টা কৃষকদের জন্য বৃষ্টির প্রচন্ড প্রয়োজন ছিলো।
এবং এই বৃষ্টির কারণে কৃষকদের মুখে উজ্জ্বল হাসি ফুটেছে।

গেল ৯সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছিল ।
যার কারনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা গুলোতে সপ্তাহ জুড়ে বিরামহীন ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে।
সমুদ্রে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখনো অপরিবর্তীত অবস্থায় থাকায় এবং সাথে পূর্ণিমা তিথি যোগ হওয়ার কারনে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী উপকূলীয় নিন্ম এলাকায় পানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার কারনে
স্হনীয় ঘের মালিকরা লক্ষ লক্ষ টাকা লুকসান গুনতে হবে বলে জানালেন বাগেরহাট রামপাল ফয়লা চিতলমারি সহ এদিকে দাকোপ চালনা কয়রা ও সাতক্ষীরা এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক মৎস্য ঘের ব্যাবসায়ী মালিকরা।

এদিকে আবার খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছেন বর্তমানে পূর্ণিমার গোনে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেও এটা দীর্ঘ মেয়াদি বণ্যার ন্যয় সমস্যা হয়ে ক্ষতি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নাই।

নিন্মান্চলের কিছু মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে সাময়িক ক্ষতি হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে মৎস্য ঘের
মালিকরা একটু চেষ্টা করে সামান্য অর্থের বিনিয়ময়ে নেট দিয়ে অথবা ঘেরের ভেড়িবাধ জনবলের মাধ্যমে
একটু পরিকল্পনা মাফিক প্রচেষ্টা মধ্যো দিয়ে এই সল্প মেয়াদী সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিদরা।

এদিকে আবার খুলনা বিভাগীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামী আরো এক সপ্তাহ নাগাদ এই আবহাওয়ার কারনে ভারী ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিদরা।
সাথে আরো এক থেকে দুই সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.