এবছর খুলনা জেলা ১ হাজার ৩৩৫ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে সক্রিয় অবস্থানে থাকবে সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুলনা জেলা প্রশাসক!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

এবছর খুলনা জেলায় মোট ১ হাজার ৩৩৫ টি পূজা মন্ডবে আগামী ১লা অক্টোবর হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী মহামায়ার পূজা আরম্ভ হতে যাচ্ছে।

মহামায়া ওই দিন দেবাদিদেব মহাদেবের কৈলাস ছেড়ে মাত্র ৫ দিনের জন্য মর্তলোকে এসে ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মা দেবী দুর্গা মহামায়া মহিষাসুরকে বধ ও আসুরিক প্রবৃত্তি মানুষদের ধ্বংসের মাধ্য দিয়ে ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অপশক্তি আসুরিক ব্যক্তিদের বিনাশের লক্ষ্যে আবির্ভূত হন।
এই মর্তলোকে মহামায়া দুর্গা দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা।

পূজার আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি তাতে করে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিটি মন্দিরের ভাস্কররা
দেবীকে মাটির কারুকার্য শেষ করে রং তুলির আচর থেকে শুরু করে শাড়ি পরিধান অলংকার দিয়ে বিভিন্ন সৌন্দর্য রূপে সাজিয়ে মা দূর্গাকে পরিপূর্ণরূপে রূপদানে করা প্রায় শেষ মুহূর্ত ভাস্করদের।

পাশাপাশি প্রতিটি মন্দির সাজিয়ে গড়ে তোলার জন্য ব্যতিব্যস্ত মন্দির কমিটির সকল কর্মকর্তাগণ।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবছর খুলনা জেলায় ১ হাজার ৩৩৫ পূজা মণ্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রয়েছে ১৫২ টি দাকোপে ৮১ টি বটিয়াঘাটায় ১০৯ টি তেরখাদায় ১৬৭ টি দিঘলিয়ায় ৫৯ রূপসায় ৭৫ টি ফুলতলায় ৩৩ টি ডুমুরিয়া চুকনগর সাহাপুর থুকড়া মিকশিমিল মিলিয়ে মোট ২০৪ এবং পাইকগাছায় ১৪৯ টি শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

হিন্দু ধর্মীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান ও জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারসহ খুলনা ২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এবং খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দের সাথে নিয়ে এক যৌথসভায় পুলিশ সুপার বলেন গত দুই বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব ও গত বছরের সাম্প্রদায়িক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনার ঝড়ে উত্তাল ছিল সারাদেশ।

তবে এবার সারা দেশব্যাপী তথা খুলনা জেলায় ১ হাজার ৩৩৫ টি পূজামণ্ডপ যথারীতি ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
এবং সাথে সকল পূজা মন্দির কমিটির নিজস্ব ভলেন্টিয়ার দের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে থাকার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেছেন হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের দূর্গা পূজা চলাকালীন সময়ে যাতে করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে কোন কুচক্রী মহল সরকারকে দোষারোপ করতে না পারে।
সেদিকে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশর্্যাব সাদা পোশাকধারী
ডি বি ও গোয়েন্দা সংস্থার সকল সদস্যদের সক্রিয় অবস্থানে থেকে কঠোর নজরদারি রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।

এমপি শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল বলেন এ দেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের অসাম্প্রদায়িক দেশ এ দেশে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান নাই।
থাকলেও তাদের চিহ্নিত করে শেকড় সহ অচিরেই সমূলে উৎপাটন করা হবে।

এদিকে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এদেশের মানুষ কোন ধর্মের ধর্মীয় উৎসবকে পৃথকভাবে কেউ কখনো দেখে না। সবাই সবার সাথে সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসব আয়োজনে শামিল হয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করে আসছে।

দেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদেশের কোন ধর্মই মানুষকে আলাদাভাবে দেখেনি। কারণ এদেশকে স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ এর মধ্য দিয়ে মাত্র
৯ মাসে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
এবং তিনি খুলনা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সকল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন। পূজা চলাকালীন সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো সর্বক্ষণ কঠোর নজরদারি
ও তদারকি করবে।
সেক্ষেত্রে আপনারাও আপনাদের প্রতিটা পূজা মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ভলেন্টিয়ারদের সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দের সাথে থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.