গর্ভবতী মাকে গভীর রাতে হাসপাতালে রেখে আসা রিমিকে সহযোগিতা করেন ইউএনও ইমরুল হাসান

মো: নূরুল ইসলাম, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ, প্রতিনিধি:

গভীর রাতে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে রেখে যাওয়া নবজাতকের মা রিমিকে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিক‍্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে দেখতে আসেন মানবিক দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান।

এসময় তিনি হাসপাতালে গিয়ে ঔষধ,সীড ভাড়াসহ সমস্ত খরচ পরিশোধ করেন ।এবং নবজাতক শিশুর জন্যে ব‍্যাবহারের জামা কাপড়,তোয়াল,বেডসীড,মশারীসহ সমস্ত জিনিস পত্র নবজাতক শিশুর মা রিমির হাতে তুলে দেন।এবং নবজাতক শিশুটির নাম রাখেন নুর-ই- জান্নত।

নবজাতকের পিতার নাম নাজমুল হোসেন।তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে।

ঘটনাটি ঘটে ১৮ ই সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ১টা ৩০মিনিটে উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামের এক সন্তানের জননী রিমি আক্তার উপজেলা চত্বরে প্রসব বেদনায় যখন কাঁদছিলেন স্বজনেরাসহ ,কোথাও কোন জায়গায় গাড়ি পাচ্ছিলেননা ঠিক সময় ইউএনও র সাথে দেখা উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকা। গভীর রাতে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দৌলতপুর উপজেলা এবং বাজার সহ কোন এলাকায় কোন গাড়ি খুঁজে না পায় না।তখন ৯৯৯এ ফোন করবে এমন সময়
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান এর সামনে পড়েন রোগী ও রোগীর স্বজনেরা। রিমি তখন প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন তখন মানবিক ইউএনও ইমরুল হাসান তার নিজস্ব সরকারি গাড়িতে তিনি নিজেই মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ডাক্তাররের সাথে কথা বলে সমস্ত পরিক্ষা নিরিক্ষা করিয়ে নরমাল ডেলেভারির জন্যে ওটিতে নরমাল ডেলিভারি করানো হয় রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে। তার পর মানবিক ইউএনও ওখান থেকে চলে আসেন তার আগ পযর্ন্ত রোগীর সাথেই বাহিরের বাড়ান্দায় ব্রেন্সে বসে থাকেন এবং ডেলেভারীর পর ওখান থেকে চলে আসেন।
এবিষয়ে মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান বলেন গত
রবিবার রাত দেড় টার দিকে উপজেলা চত্বরের ভিতর পায়চারি করছিলাম। হঠাৎ আমার নজরে আসলে আমি এগিয়ে এসে ওদের সাথে কথা বলি, কোন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিলনা। এমন পরিস্থিতিতে আমি ড্রাইভার কে নিয়ে দ্রুত মানিকগঞ্জ মুন্নু হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাকে পরিক্ষা নিরিক্ষা শেষে ডাক্তার বললো নরমাল ডেলিভারি সম্ভব। বাচ্চা প্রসবের পরেই আমি ওখান থেকে চলে আসি।আমি খবর নিয়ে জানতে পারলাম নাজমুলের পরিবার অত‍্যান্ত
দূর্বল হওয়ায় আজ হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতালের খরচ সহ যা কিছু প্রয়োজন তা দিয়ে চলে আসি। এবং ওই পরিবারের পক্ষথেকে আমাকে নাম রাখতে বললে আমি ইমামদের সাথে আলাপ করে ইসলামিক একটি নাম বাছাই করি এবং তার নাম রাখি নুর-ই-জান্নাত।তবে এখন মা মেয়ে দুজনেই সুস্থ‍্য আছে। একজন মানুষ হিসাবে আমার কাজটুকু করা প্রয়োজনমনে করায় আমি করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.