দুর্গার ষষ্ঠী গতা পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় দিনে সপ্তমী তিথি পূজার শুভক্ষণ আজ!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীদেবীফ :

আজ মহামায়া মা দুর্গার মহা সপ্তমী পূজার প্রারম্ভে প্রাত মুহুর্ত সকল পূজামণ্ডপে ঢাকের আর কাসড়ের সাথে পূজারীর ঘণ্টাও শঙ্খের প্রখর দিণাণের উচ্চ ধ্বনি সাথে ধূপের ধোঁয়ায় মুখরিত পূজামণ্ডপ গুলো।

তাই প্রাতক্ষণে শরতের শিশির ভেজা ঘাস দু’পায়ে মাড়িয়ে সারিবদ্ধ ভক্তরা মায়ের পূজার নৈবেদ্য পুষ্পার্ঘ্য ডালা সাজিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে এসেছে মায়ের পূজা নিবেদনের লক্ষে।
এ জেনো এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন স্বর্গীয় পরিবেশ এই মর্ত্যভূমী।
মা দুর্গার সপ্তমী পূজার বিধি হিন্দু শাস্ত্রীয় পুরাণ শাস্ত্র মতে আজ ১৫ আশ্বিন ২ অক্টোবর রবিবার
শ্রীশ্রী দেবী দূর্গার মহাসপ্তমী বিহীত পুজোর শুরু ভোর ৫:৩০ মি: আজকের দিন সূর্যোদয় ৫: ৩২ মি: পর্যন্ত মহাসপ্তমীর সময়সীমা ৬ : ২৩ মি: পর্যন্ত। শ্রী শ্রী শারদীয়া দূর্গা পূজোর পূর্বাহ্ন মধ্যে দ্ব্যাত্নক চরণলগ্নে ও চলনা বংশে প্রবন্ধ রচনাবংশে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন ও সপ্তমাদীকল্পারম্ভ ও সপ্তমে বিহিত পূজা প্রশস্তা। দেবী গজে আগমন শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। রাত্রি ১১ টা ৩ গতে ১১ টা ৫১ এর মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রি বিহিত পূজা।

হিন্দু ধর্মীয় স্বাস্থ্য তথ্য অনুযায়ী পাওয়া যায় যে সপ্তমী পূজা তিথি হচ্ছে মা দেবী দুর্গা বেলপাতা এসে অবস্থান করেন।
এবং সেই প্রথা অনুযায়ী কোনো একটি বেল গাছের ডাল কে নির্দিষ্ট করে রেখে আজ প্রাতে ভোর ৫ টায় মহামায়ার সপ্তমী পূজা আরম্ভ হবে।

আজ মহাসপ্তমী পুজা মাহাত্ব্য উদঘাটনের মধ্য জাগতিক মানব কুলে জ্ঞান ভূষিত হয়।
শরৎকালের স্বর্গের দেবতাগণ ঘুমিয়ে থাকেন তাই দেবীকে ঘুম থেকে জাগ্রত করার জন্য আহ্বান করতে হয়।
মহামায়া দেবী এইসময় কুমারী রূপে বিল্ব পত্রে অবস্থান করেন। তাই মহা ষষ্ঠীর দিন বেল বৃক্ষ তলায় দেবীর বোধন ও অধিবাস সম্পন্ন হয়।
সেক্ষেত্রে বেল বৃক্ষের একটি ডালকে চিহ্নিত করে রাখা হয় এ দিন।
তারপর সপ্তমীর তিথী লগ্নে পঞ্জিকার সময় নির্ঘন্ট অনুযায়ী ওই চিহ্নিত বৃক্ষের ডাল কেটে মন্ডপে পুজোর স্থানে নিয়ে আসতে হয়।

সপ্তমীর সকালে সর্বপ্রথম কলাবউ স্নান করানো হয়। কলা বউ বাংলার দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট অঙ্গ। সপ্তমীর সকালে নদী বা জলাশয় নিয়ে যাওয়া হয় নবপত্রিকা কে মহা স্নান করাতে। তখন শাস্ত্র বিধি মেনে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পড়ানো হয় নবপত্রিকা কে। নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে নবপত্রিকা গঠন করা হয়। এই নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক। এই নয়টি উদ্ভিদ হল কদলী বা রম্ভা কলাগাছ কচু হরিদ্রা হলুদ জয়ন্তীর বেল মান ও ধান।নবপত্রিকা কে স্নান করিয়ে ফিরিয়ে আনা হয় বাড়ির পুজোর অথবা বারোয়ারি পুজো মণ্ডপে। সেখানে প্রবেশ এর পরই দূর্গা পূজার মূল প্রথাগত অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ এর পরে দর্পণে দেবীকে মহা স্নান করানো হয়। তারপর মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ধূপধুনো বস্ত্র নৈবেদ্য পুষ্পমাল্য চন্দন সহ ১৬ টি উপাচার দিয়ে দেবী দুর্গাকে পূজা করা হয়। আর এই মায়ের মহাপূজা লগ্নে মর্তের ভক্ত প্রাণ মানুষেরা পুষ্পার্ঘ্য অঞ্জলি দেওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় মন্দিরের সামনে অপেক্ষিত থাকে মায়ের পূজার্চনা দর্শন করার জন্য।
অত পর মন্দিরের পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ এর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার শ্রী চরণ কমলে পুষ্পাঞ্জলী নিবেদন করে মনের আরতি জানায় মা তুমি জগতের সকল দুঃখ-কষ্ট আসুরিক মানুষদের মনুষ্যত্বকে সত্যের পথে অবিচলিত চলার দৃষ্টান্ত পথ প্রদর্শন করার সুমতি দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *