খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে অন্য দুই প্রার্থী কেসিসি মেয়রের বিরুদ্ধে!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

নির্বাচন আইন লংঘন দেখছেনা আইন প্রণেতারা।
নির্বাচনী আইন ২ এর ২২ ধারা আইন অনুযায়ী সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ সুবিধাভোগী ব্যক্তি যেমন সিটি মেয়র এবং সংসদ সদস্যগণ নির্বাচনী প্রচারণায় আইন অনুযায়ী কোনো সুযোগ না থাকা সত্বেও তারা সভা করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।

এদিকে নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার খুলনা জেলা প্রশাসক
মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন লঙ্ঘনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক গত ৪ তারিখ মঙ্গলবার খুলনা ক্লাবে মেয়রের নিজ উদ্যোগে খুলনা ৬ টি আসনের
৫ জন সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যা সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে মত বিনিময় সভার নামে গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করলেও সুযোগ হয়নি কোনো মতামত প্রকাশের।

তবে সম্পূর্ণ মতপ্রকাশের সভাটি আয়ত্ত করে রেখেছিলেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নিজেই। সভাস্থল থেকে অভিযোগ ওঠে জিনি বিনয়ের সাথে সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সাথে মত বিনিময় আলোচনা করবেন কি।
উল্টো তার বিপরীতে দলীয় প্রার্থীর (মোটরসাইকেল) প্রতীকে ভোট প্রদান না করলে সেই সকল ভোটারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরাসরি হুমকি দেন তিনি।

সিটি মেয়র ভোটারদের উদ্দেশ্য আরো বলেন আপনারা মোবাইল ব্যবহার করেন।
তাই কে কখন কার সাথে কি ধরনের কথা বলেন সব তথ্যই আমার কাছে লিস্ট হয়ে আসবে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের বলছি আপনারা হুশিয়ার থাকবেন মোটরসাইকেল প্রতীক দলীয় প্রার্থী জয়ী হতে না পারলে খবর আছে কঠিন খবর।

সিটি মেয়রের এ ধরনের বিক্ষিপ্ত বিরোধী আচরণ ও বক্তৃতার সাথে জাতীয় সংসদের হুইপ সহ অন্য ৫ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ ও তালুকদার আব্দুল খালেক এর একই সুরে তারা কথা বলেছেন বিধায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম মর্তুজা রশিদী দারা।

সিটি মেয়রের নির্বাচন বিরোধী আইন লঙ্ঘনের সকল অভিযোগ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন তিনি।

একইদিন পৃথক আরেকটি অভিযোগে তিনি ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধির বিষয়ে আপত্তি এবং ৯ টি ভোট কেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে মর্তুজা রশিদী দারা উল্লেখ করেন গত ৪ অক্টোবর খুলনা ক্লাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ হারুনুর রশিদের ( মোটরসাইকেল মার্কা ) সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল মার্কা) পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এবং ভোটারদের কাছ থেকে ভোট বুঝে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেছেন।
যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথকে রুদ্ধ করছে।

পৃথক আরেকটি অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন। খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৯ টি ওয়ার্ডে ৯ টি ভোট কেন্দ্র হবে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল। যখন নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রতি মন্ত্রী পদমর্যাদার মেয়র ভোট বুঝে নেবেন বলে হুমকি প্রদান করছেন তখন আমরা দেখলাম জেলা পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র কে ভাগ করে খুলনা সিটি করপোরেশনে একটিও রূপসা উপজেলার ভোটার দের জন্য একটি আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করে মোট ১০ টি ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মোট
৪২ টি ভোটের জন্য আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করে ভোট বুঝে নেওয়ার একটি কৌশলগত দিক বলে আমাদের মনে হয়েছে। যে কারণে ভোট কেন্দ্র দুটি করার বিষয়ে আমরা আপত্তি জানাচ্ছি এবং পূর্বের ন্যায় ৯ টি কেন্দ্র রাখার জন্য দাবি করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *