সন্তানের মরদেহ দেশে আনতে দুই দিন ধরে চেকপোস্টে অপেক্ষায় মা।

ইয়াছিন আলী ইমন
জেলা প্রতিনিধি  কুড়িগ্রাম ঃ

মায়ের কাছে সব থেকে কষ্টকর সন্তানের লাশ বহন করা। সেই সন্তানের মরদেহ নিয়ে দুই দিন ধরে চেকপোস্টে অপেক্ষায় মা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় দেশে নিতে পারছেন না ছেলের লাশ।স্বজনরা জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডুলপাড়া আসাদের মোড় এলাকার আবু বক্করের ছেলে আল আমিন গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কয়েকদিন আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের কোলকাতায় নিয়ে যান মা মঞ্জুয়ারা। সেখানে গত মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আল আমিন। ছেলের মৃত্যুতে পাগল প্রায় মা বুধবার ছেলের লাশ নিয়ে আসেন চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্টে।
এদিকে হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট, ভারতীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও ভারতের কোলকাতায় বাংলাদেশের ডিপুটি হাই কমিশনারের কার্যালয়ের কাগজপত্র না থাকায় চেকপোস্টে লাশ নেননি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।চেকপোস্টে ছেলের লাশ রেখে আবার কোলকাতায় গেছেন মা মঞ্জুয়ারা। চেকপোস্টের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপেক্ষা করছেন নিহত আল আমিনের মামাসহ অন্যান্য স্বজনরা।আল আমিনের মামা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পেরেছেন তার মা। এরপর তিনি বাংলাদেশী হাইকমিশনার কার্যালয়ে গেছেন।স্বজনরা বলছেন, হঠাৎ করে ভারতে কেউ যেতে পারছেন না। ওখানে মা মঞ্জুয়ায়া একাই ছোটাছুটি করছেন। চ্যাংড়াবান্ধায় চেক পোস্টে লাশ পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।আল আমিনের পাগল প্রায় মা কাগজের জন্য হন্যে হয়ে ছুটছেন। চ্যাংড়াবান্ধায় আটকে থাকা আল আমিনের মরদেহটি হস্তান্তরে কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাচ্ছেন স্বজনরা।
তথ্য বলছে, দেশের বাইরে মারা যাওয়ায় লাশ দেশে আনতে ওই দেশের হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট থানার জিডিসহ কোলকাতাস্থ বাংলাদেশী হাই কমিশনের লিখিত সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।এ প্রসঙ্গে আইনজীবী এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, যেহেতু ভারতে মারা গেছে, এ জন্য কাগজপত্র প্রয়োজন। কিন্তু মানবিক ব্যাপার হচ্ছে ছেলের মরদেহ নিয়ে বসে আছে মা। সঙ্গে আর কেউ নেই। তার কাছে এখন ছেলের মরদেহ নিয়ে আসতে পারাটাই কষ্টের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *