খুলনার অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এখন স্থানীয় কতিপয় চোর ও নেশাখোরদের দখলে!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

এক সময় সরকার যেখান থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করত এবং শত শত শ্রমিকদের জীবিকার উৎস ছিল যার নাম খুলনার অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি।

অথচ আজ প্রায় দেড় যুগ এর অধিক সময় ধরে বন-জঙ্গল আর বখাটেদের আড্ডার অভয়ারণ্য হয়ে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে খুলনার অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি।
কাঠামোগতভাবে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়ে থাকলেও অভ্যন্তরে নেই কোন যন্ত্রপাতি ছোট বড় মেশিন এমনকি ইলেকট্রনিক্স-সামগ্রী ফ্যান লাইট অন্যান্য চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে কোন কিছুই।

এলাকার পুরাতন বাসিন্দাদের তথ্য মতে জানা যায় এখানকার কতিপয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী খুদে নেতা ও চোরের উপদ্রব ও নেশাখোরদের পদচারণায় ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরীণ সকল যন্ত্রপাতি।

দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকাবাসী আরো জানান এখানকার কিছু ছেলেপেলে দাপটের সাথে এখানে আড্ডাবাজি করে এবং সন্ধ্যার পর থেকে বহিরাগত অসংখ্য হন্ডা গুন্ডা মস্তানদের সাথে নিয়ে নেশার আসর বসিয়ে নেশা করলেও এদের বিরুদ্ধে কথা বলার মতন এলাকার কারো ক্ষমতা নাই।

এ বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ কমিটির সভাপতির নিকট দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন।
আমাদের দক্ষিণ বাংলার খুলনা জেলার শহরের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এখন ভঙ্গুর দশায় দাঁড়িয়ে আছে শুধু স্মৃতি হয়ে খুলনার জনমানুষের কাছে।

তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের কাছে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিটি এখন শুধু গল্প ও রূপকথা স্মৃতির কাহিনী ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নাই।

যেখানে মুখরিত থাকতো শতশত শ্রমিকদের পদচারণার কর্মব্যস্ততা খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে অসংখ্য শ্রমিকরা কর্ম করে সংসার জীবিকা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলত স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্যের শ্রমিকদের জীবন জীবিকা।

এখানে আসলে শোনা যেত মেশিনের ঠক ঠকানি শব্দ এবং শ্রমিকদের কলরবে মুখরিত এক অন্যরকম কর্মব্যস্ত পরিবেশ। শ্রমিকদের কর্ম শেষে ঘড়ির কাঁটা ধরে যখন ছুটির সময় হতো আর বেজে উঠত ছুটির সাইরেন তখন সঙ্ঘবদ্ধ শ্রমিকরা মনের উচ্ছ্বাসে ফিরে যেত যে যার মতন বাসাবাড়িতে।
পাশাপাশি আনন্দে মুখরিত ছিল এলাকা তথা ছোট খাটো ব্যবসায়ীদের রমরমা অবস্থা।

অথচ কালের পরিবর্তে সেখানে আজ সন্ধ্যা নামলেই শুনশান নিরবতা ভুতুড়ে পরিবেশ।
আড্ডা জমে ওঠে নেশাখোরদের সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে নেশার আড্ডা।

দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে আজ কাঠামোগতভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও নাই তার অভ্যন্তরীণ কোন যন্ত্রপাতি মেশিন এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী লাইট ফ্যান অন্যান্য যন্ত্রপাতি সবকিছুই আজ চোরদের করালগ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে।

দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি পার্শ্ববর্তী একজন পুরাতন বাসিন্দা মুসলেম মোল্লা জানান প্রথমে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে সরকার লোকসানের কারণে বেসরকারিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি মালিকের বরাবর নিলাম বরাদ্দের মাধ্যমে হস্তান্তর করলে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি নাম পরিবর্তন হয়ে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে নতুন রূপে রূপান্তরিত হয়ে পদচারণা শুরু করে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি নামে।
তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি পদচারণা শুরু করলেও প্রতিষ্ঠানের মালিক বাদ দিয়েছিল না কোনো পুরাতন শ্রমিকদের।

পুরাতন সকল শ্রমিকদের নিয়ে চলতে থাকে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি অথচ সি বি এ কর্মকর্তাদের অবৈধ পদচারণা ও অধিক লালসার কারণে বেশি দিন টিকতে পারেনি বেসরকারি ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি।

সাথে দিনদিন লুকসানের খাতা ভারী হয়ে যাওয়ার কারণে লুকসানের ভার বহন করতে না পেরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফ্যাক্টরি মালিক সিদ্ধান্ত নেয় এত লুজার বহন করে ফ্যাক্টরি ধরে রাখতে গেলে সরকারের খাতে উল্টো ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হবে।

তথাপিও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সকল শ্রমিকদের কর্মচারী ছাটায়ের নোটিশ জারি করেন ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ।
আর এতে অসহায় জীবনে চলে যায় কয়েক শ পরিবার কর্ম হারিয়ে বেকার জীবনে।

তবে প্রতিষ্ঠান মালিকের কাছে কর্মরত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা বাকি থাকলেও অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে শ্রমিকদের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্মরত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা।

কিন্তু দেশের একটি স্বনামধন্য বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন ও জীবিকা নির্বাহের মূল প্রতিষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হল খুলনার মানুষ।

সেক্ষেত্রে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সকল নেতাকর্মী তথা সারা খুলনা অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম অবদান পদ্মা সেতু তৈরি ও উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ বাংলার উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

তাই আমাদের খুলনা শিল্প অঞ্চলের বন্ধকৃত সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কে পুনরুজ্জীবিত করে আবারো খুলনাকে শিল্প নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে খুলনাবাসীর ভাগ্যর দ্বার উন্মোচন হবে।
এবং সরকারের হবে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *