সরকার নির্ধারিত মূল্যেয় খুলনায় মিলছেনা এলপিজি ও সোয়াবিন তেল!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

গত ৩ অক্টোবর সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস ও সয়াবিন তেল বাজারে বিক্রি করার কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও মিলছেনা সরকারি মূল্য বাজারে এলপিজি গ্যাস ও ভোজ্য তেল।

সরকার ভোজ্যতেল ও এলপিজির মূল্য কুমিয়ে বাজারে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে সকল ডিলার থেকে লাপাত্তা হয়ে যায় এলপিজি ও ভোজ্য তেল।
খুলনা নগরীর সকল বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় অথচ মিলছেনা ভোজ্যতেল ও এলপিজি গ্যাস অভিযোগ করে বলেছেন খুলনা বাজারে ক্রেতা রুস্তুম মোল্লা।

এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছে আমাদের পূর্বের দামে মাল খরিদ করার ক্ষেত্রে যদি বর্তমান সরকার ঘোষিত মূল্যে ভোজ্য তেল বিক্রি করি তাহলে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকা লুকসান গুনতে হবে। এবং মজুদকৃত পণ্য বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত সরকার ধার্যকৃত নতুন মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে না।

অথচ বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ সরকার কোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে সকল পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবং বাজার থেকে পণ্য সংকটের ভাঁওতাবাজি এক তেলেসমাতি খেলা শুরু করে বাজারের মজুদ ব্যবসায়ীরা।

অথচ সরকার ঘোষণার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও নতুন মূল্য ভোজ্যতেল ও এলপিজি গ্যাসের ডিলাররা কিনতে না পারার ভুয়া অজুহাত দিচ্ছে ব্যবসায়ী মহল এবং সরকার নতুন নির্ধারিত মূল্য তুয়াক্কা না করে পুরাতন দামেই বিক্রি করে যাচ্ছে ভোজ্য তেল সয়াবিন ও এলপিজি গ্যাস। এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে দুটি পণ্য বিক্রি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন সরকার নির্ধারিত দামে তেল-গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার ৬ অক্টোবর থেকে খুলনায় অভিযান শুরু হয়েছে।

নগরীর বড়বাজারে একাধিক দোকান ঘুরে জানা যায় ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯২ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা ।
একইভাবে ৫ লিটারের বোতল ৯৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এছাড়া। খোলা সয়াবিন এক কেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

অথচ সরকার ৩ অক্টোবর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৪ টাকা ও খোলা প্রতি লিটারে ১৭ টাকা দাম কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করে দেয়। সরকার নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৫৮ টাকা বোতল জাত প্রতি লিটার সয়াবিন ১৭৮ টাকা ও ৫ লিটারের বোতল জাত সোয়াবিন ৮৮০ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা।

অন্যদিকে এলপিজি বোতলের দাম ৩৫ টাকা কমিয়ে ১২ শো টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার । কিন্তু আজকের দিনেও ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা না মেনে ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি করার প্রমাণ মিলেছে।

এক্ষেত্রেও এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ীরা বলছেন নতুন মাল কোম্পানি থেকে তারা বুঝে পাননি যে কারণে তারা সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে পারছেন না।

নগরীর বড়বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী দোকানদার ও গুদামজাতকারীরা জানান কোম্পানি থেকে এখনও নতুন দরের মাল আসেনি। পুরনদরের বোতল শেষ হলেই মার্কেটে আসবে। প্রতিনিয়ত তেল বিক্রিকরতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বাজারের মেসার্স বিধান স্টোরের মালিক লিটন সাহা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন আমাদের কাছে নতুন দামের সোয়াবিন তেল এখনো আসেনি। ফলে নতুন দামে তেল বিক্রি করতে পারবোনা।

এক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসা করাটাই দায় হয়ে পড়েছে সরকার একেক সময় ভোজ্যতেলের একেক দাম নির্ধারণ করে তেলের দাম সরকার ১৪ টাকা কমিয়েছে ঠিক কিন্তু কোম্পানি আমাদের কাছ থেকে কম নিচ্ছে না।

একই কথা জানালেন আসাদ স্টোরের মালিক আসাদুল ইসলাম।
এখানেও এক লিটারের সোয়াবিন তেল ১৯০ ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৯০০ টাকায় বিক্রি করছে তারা।
আসাদুল বলেন সরকারের নতুন দলের ঘোষণা তারা শুনেছেন কিন্তু বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে।

অপরদিকে বর্ধিত দরেই ১২ কেজি বোতলের এলপিজি গ্যাস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে আসাদুল বলেন প্রতি বোতল এলপি গ্যাসের দাম ১২ শো ৫০ টাকা আবার অনেকে ১৩২০ টাকা দরে ও বিক্রি করছেন। পূজার ছুটি হওয়ায় এখনো নতুন দরের গ্যাস আমাদের কাছে আসেনি। তাই আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডের একাধিক গ্যাস বিক্রেতা জানান তাদের কাছে আরো অনেক দিনের গ্যাস মজুদ আছে। সরকারী নির্ধারিত দামে যদি বিক্রি করতে হয় তাহলে আমাদের বিপুল পরিমাণে লুকসান গুনতে হবে।
কারণ কোম্পানি থেকে কোন ভর্তুকি দেওয়া হয় না।

গ্যাস কিনতে আসা নিয়াজ আহমেদ নামে একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকার ভোজ্যতেল ও এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা মানছে না। তারা পূর্বের দরে বিক্রি করছেন।

তার পাশে থাকা আরেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমাদের দেশে একবার যে জিনিসের দাম বাড়ে সহজে তা আর কমতে চায় না। আর কমলেও যাদের দেখার কথা তারা সঠিকভাবে দেখেনা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার দপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহিনুর আলম বলেছেন আগের দামে গ্যাস সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এমন অনেক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কিন্তু ছুটি থাকায় আমরা অভিযান চালাতে পারেনি আগামীকাল রবিবার থেকে এ বিষয়ে অভিযান শুরু হচ্ছে অভিযানে জেল ও জরিমানা করা হবে।

নগরীর সাধারণ ক্রেতারা জুড়ালো অভিযোগ করে বারবার একই কথা বলছে সরকার দাম কমানোর কথা থাকলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম না কমিয়ে পূর্বের দামে বিক্রি করে থাকে।

অথচ কোনক্রমে মূল্যবৃদ্ধির আভাস পাওয়ার সাথে সাথে শুরশুরিয়ে দাম বাড়িয়ে পণ্যবাজার থেকে লাপাত্তা করে দিয়ে অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্বিগুণ মূল্যে পণ্য বিক্রি করার কৌশলের পায়তারা শুরু করে। সে ক্ষেত্রে যদি ব্যবসায়ীদের বলা হয় দাম নির্ধারণ এখনো কার্যকর হয়নি তবে আপনারা বেশি দাম নিচ্ছেন কেন।
এ সকল কথার জবাবে ব্যবসায়ীরা তোতাপাখির মতো বুলি জুড়িয়ে বলেন সরকার বাড়িয়েছে আমরা কি করবো আমরা কি লোকসান করে পণ্য বিক্রি করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *