আসছে শীত!খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত চুয়াডাঙ্গার গ্রাম বাংলার গাছিরা

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা,
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রতিকৃতিতে বইছে শীতের আগমনি বার্তা।আর শীতের মৌসুমর শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার  চারটি উপজেলার গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে গ্রামের গাছিরা গাছ প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে। খেজুরের রস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাছ কাটায় পারদর্শী স্থানীয় গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা ছোলার কাজ শুরু করছে।কিছু দিনের মধ্যে খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়ে যাবে। শীত মৌসুমের শুরুতেই রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ অঞ্চলের গাছিরা।শীতে গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের বাড়ীর খেজুর রস ও নলেন গুড়ের মৌ-মৌ গন্ধে ভরে এলাকা। শীতের সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে বোঝানো যায় না। খেজুর রসের পিঠা ও পায়েসতো খুবই মজাদার। শীত মৌসুমে গ্রমাঞ্চলে খেজুর রসের ক্ষির, পায়েস ও পিঠে খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শীতের সকালে বাড়ির উঠানে রস জালিয়ে তৈরি করা হয় গুড় ও সুস্বাদু পাটালি।
জানাগেছে,  উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে খেঁজুর বাগান।এ থেকে প্রায়  ৩০০টন গুড় উৎপাদন হবে। আর কয়েক দিন পরই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হবে এ থেকে গুড় তৈরি চলবে ফাগুন মাস পর্যন্ত। হেমন্তের প্রথম থেকে বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি ও গুড়। অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছের কদর এখন অনেক বেশি। খেঁজুরের এই গুড়ের মৌসুমে উপজেলার জয়রামপুর ষ্টেশন সংলগ্ন গুড়ের হাট ব্যাপক জাকজমক হয়ে উঠে। আমাদের এলাকার এই গুড়গুলো এই হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। সব চেয়ে বড় হাটবসে সরোজগঞ্জে। এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়। ভরা মৌসুমে এই হাট থেকে সপ্তাহে ৬/৭ ট্রাক গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। তারা আরো বলেন, ১ কেজি গুড় তৈরি করতে শ্রম ও জ্বালানিসহ গাছিদের খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা। আর প্রতি কেজি গুড় বর্তমান বাজারে বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে। এ কারণে গাছিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
 ইটভাটায় জ্বালানির কাজে, বিভিন্ন উচু জায়গার থেকে এই গাছ নিধন করে ফলের বাগান গড়ে উঠায় খেজুর গাছ কমে যাওয়ায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *