জীবন্ত লাশ যেন ৪ বছরের শিশু প্রতিবন্ধী সেতু ” তার জীবন কাটছে ছোট্র নির্জন কক্ষে।

সরদার রইচ উদ্দিন টিপু, জেলা(প্রতিনিধি) নড়াইল

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের চরদৌলতপুর গ্রামে ৪ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা শিশুকে নির্জন রুমে আটকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকা বাসী ও স্বজন সুত্রে জানাগেছে উপজেলার চরদৌলতপুর গ্রামের রাজীব কুন্ডুর স্ত্রী গত ৫ বছর আগে একটি কন্যা সন্তান প্রসাবের ২ ঘন্টা পর মারা যায়। নবজাতক শিশুকে লালন-পালনের জন্য রাজীব কুন্ডুর স্বগোত্রীয় বলয় কুন্ডু মেয়ে সুচিত্রা কুন্ডু নিঃসন্তান হওয়ায় বলয় কুন্ডু নবজাতকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে নবজাতকের বাবা রাজীব কুন্ডু ও নিঃসন্তান সুচিত্রার স্বজনরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নবজাতকে দত্তক গ্রহণ করেন নিঃসন্তান সুচিত্রা ও তার স্বামী কে ডি আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবাস কুন্ডু এবং ওই নবজাতকের নাম রাখেন ” সেতু কুন্ড “।

নবজাতক সেতুকে নিয়ে সুখে দিন কাটছিলো নিঃসন্তান দম্পত্তির। বীধিবাম, দেড় বছর পর কোন একদিন সেতুর গায়ে গরম পানি পড়ে তার শরীর পুড়ে যায়। তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক সেতুকে মানষিক প্রতিবন্ধী বলেন।
সেখান থেকেই আস্তে আস্তে নেমে আসে সেতুর উপর মানষিক নির্যাতনের খড়গ। মংগলবার
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতুকে পরিত্যক্ত রান্নাঘরের মধ্যে আটকিয়ে রেখেছে সেতুর দত্তক নানি। ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়ে এদিক ওদিক দেখে সেতু। মনে হয় সেতু যেন মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামির কন্ডেম সেলে।

সেতুর জন্মদাতা পিতা রাজীবের সংগে কথা হলে তিনি বলেন আমার মেয়েকে সুচিত্রা ৪/৫ বছর আগে দত্তক নিয়েছে। ৩/৪ মাস হলো সুচিত্রার মা ( বলয় কুন্ডুর স্ত্রী) সেতুকে চরদৌলতপুর নিয়ে আসেন এবং একটি রুমের মধ্যে আটকিয়ে রাখেন।মেয়েটি সারাদিন চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করে। আমি কিছু বল্লে আমাকে ধমক দেয়। আর বলয় কুন্ডু বলে তোর মেয়ে তুই নিয়ে যা। না নিলে তোর ঘরে ফেলে আসবো।

সেতু কুন্ডুর দত্তক পিতা সুবাস কুন্ডু বলেন আমরা সেতুকে ২/৩ মাস আগে আমার শ্বশুর বাড়ি চরদৌলতপুর গ্রামে রেখে আসছি। ওখানে আমার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি সেতুকে কিভাবে রেখেছে তা আমার জানা নাই।যদি এমন ঘটনা ঘটে তা অমানবিক।

সেতু কুন্ডুর দত্তক নানি চরদৌলতপুর গ্রামের বলয় কুন্ডুর স্ত্রী সাথে কথা হলে নয় ছয় কথা বলেন। মেয়েটি ওই রুমে রেখেছি তাতে আপনাদের কি সমস্যা, বলয় কুন্ডুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আপনাদের এতো দরদ কেন বলতে পারেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন ২/৩ মাস হলো মেয়েটিকে নিয়ে আসছে। আমরা প্রায়ই মেয়েটির কান্নার শব্দ শুনতে পাই। কিন্ত মেয়েটিকে বাইরে/ যেকোন জায়গায় তাকে চেয়ারে বসিয়ে রাখলে সে চুপ করে বসে থাকে।

ওই ওয়াডের জনপ্রতিনিধি তমাল কুন্ডুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ঘটনাটি শুনেছি তবে আমার বলার কিছুই নাই।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শামীম রেজার সংগে কথা হলে তিনি বলেন এঘটনা আমি জানি না তবে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *