লোহাগড়ায় শিক্ষক জুতাপেটা করলেন “দপ্তরিকে” তাও শিক্ষক দিবসে

সরদার রইচ উদ্দিন টিপু,  লোহাগড়া নড়াইল প্রতিনিধি :

 

সহকারী শিক্ষিকার বাড়ির কাঁচা বাজার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার শিউলি জুতা দিয়ে পেটালেন নিজ স্কুলের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী মো: ইমদাদুল জমাদ্দারকে (৩০)। এ ঘটনায় শারিরিক ভাবে নির্যাতনের শিকার মো: ইমদাদুল জমাদ্দার লোহাগড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ১৭ নং এল ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার শিউলি বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী মো: ইমদাদুল জমাদ্দারকে ডেকে তার বাড়ির কাঁচা বাজার করতে বলেন। এ সময়ে দপ্তরি ইমদাদ তার স্ত্রীর অসুস্থ্যতার কথা বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে তার পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে মারধোর করেন। এ সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক রকিবুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক সৈয়দ মাহামুদুল্লাহ ঠেকাতে গেলে তিনি তাদের উপর দিয়ে চড়াও হয়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে স্যান্ডেল পেটা করেন।
এ সময় ঐ শিক্ষিকা উপস্থিত স্কুলের দাতা সদস্য রবিউল ইসলাম রুনুসহ গ্রামবাসীদের সামনে হুংকার দিয়ে বলেন,‘ আমার স্বামী পুলিশের উর্দ্বতন কর্মকর্তা, তোর যা করার তুই কর।
দপ্তরি ইমদাদ যেন জাহেলি যুগের ক্রীতদাস! একজন মানুষ গড়ার কারিগরের আচরণ যদি এমন হয় তাহলে জাতি কি শিক্ষা আশা করতে পারে এই শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার শিউলির নিকট থেকে ?
১৭নং এল ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো: ইউনুচ মোল্যা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি কাজে থাকায় স্কুলের দাতা সদস্য রবিউল ইসলাম রুনুকে ঘটনা জানার জন্য পাঠিয়েছি, সভাকরে পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার শিউলির সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে (০১৭৮৩-৯৬৯৩৬৫) যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমার নামে অভিযোগ হলে আমার কর্মকর্তারা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ বুঝবে। এমন ও হতে পারে আমি তার সংগে মিলে যেতে পারি। তারপর আপনারা সংবাদ প্রকাশ কইরেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রকিবুল ইসলামের সংগে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার শিউলি যে ঘটনাটি ঘটিয়াছে তা সম্পূর্ণ বীধিবর্হিভূত ও চরম অন্যায়। একজন শিক্ষিকার এমন আচরণ কাম্য নয়। ঘটনা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বর্মন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *