পাল্টা কর্মসূচি না উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় ৪ নভেম্বর থেকে জনসমাবেশ

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ:

খুলনায় আগামী ৪ নভেম্বর থেকে মাস ব্যাপী আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেছেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা স্বপক্ষের দল।
প্রতিহিংসার রাজনীতিকে বুকে ধারণ করে কখনো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রাজনীতি করেনি।
বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছেন দেশ মাটি, ও সাধারণ জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জনের লক্ষ্যে।

বঙ্গবন্ধুর চেতনায় সর্বদা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় মানুষদের ক্ষুধা-দরিদ্র মোচনে তাদের সাথে মিশে গিয়ে সকল দুঃখ-কষ্টকে ভাগাভাগি করে ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করে অসহায় ক্ষুধা-দরিদ্র মানুষদের জন্য দুমুঠো ভাতের দাবি আদায় করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণ সমাবেশ করতেন।

বঙ্গবন্ধুর ডাকা সমাবেশে কখনো অর্থের বিনিময়ে কর্মী সংগ্রহ করে সমাবেশ করতে হয়নি।
তানার এক ডাকে দেশের লাখো জনতা পাকিস্তানি পরা শক্তির সকল বাধা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধুর ডাকা সমাবেশ জনসমুদ্র পরিণত হতো।

আর আজ দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি সারাদেশব্যাপী গণ সমাবেশের নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনা ও সকল উন্নয়ন কে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মেতে দেশজুড়ে গণসমাবেশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে কর্মী ও মাস্তান বাহিনী জোগাড় করে অরাজকতা সৃষ্টি করে তাদের সকল অপকর্ম সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে আবারও নীল নকশার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা করছে।

তবে এ দেশের স্বচেতন জনগণ বিএনপি’র বিগত দিনের সকল অপকর্ম ও খুনের রাজনীতি ভুলে যায়নি।

বরং বিএনপিকে দেশের ভুক্তভোগী মানুষেরা অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এবং তাদের ডাকে
দেশের মানুষ আর সাড়া দিচ্ছে না। ফলে তারা আবারও দেশে খুনের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা করছে।

তবে সেই সুযোগ তাদের আর দেওয়া হবে না। বলেছেন খুলনার আওয়ামী লীগ তথা সরকারদলিয় দায়িত্ববান ঊর্ধ্বতন নেতারা।
তানারা আরো বলেছেন আওয়ামী লীগ দেশ ও জনগণের দল।
তাই দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ৪ নভেম্বর খুলনা দৌলতপুরে সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।
এ সমাবেশ বিএনপির অপরাজনীতির পাল্টা প্রতিক্রিয়া সমাবেশ নয়।
এ সমাবেশ স্বাধীনতা স্বপক্ষের সমাবেশ। আর এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জনগণের সুচিন্তিত রায় নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় এনে দেশের অসমাপ্ত উন্নয়নের কাজ সমাপ্ত করে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল ও মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে।

তাছাড়া সাধারণ মানুষের অনেক জল্পনা কল্পনায় আজ সমালোচনার ঝড় উঠিয়ে বলছে বিএনপি নাকি সরকারের বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে হলে ও গণসমাবেশ সফল করেছে। ইতিবাচক আলোচনার এ অবস্থায় বসে থাকতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠে নিজেদের দখলে রাখতে নভেম্বর মাসব্যাপী দল গোছানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে আগামী ৪ নভেম্বর নগরীর দৌলতপুরে এবং ১ ডিসেম্বর হাদীস পার্কে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি ।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বিএনপির গণ সমাবেশে দলটির নেতাদের দেওয়া উস্কানিমূলক ও দৃষ্টতা মনে করছেন তারা। এছাড়া সমাবেশে যোগ দেওয়ার সময় ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর আধুনিক রেল স্টেশন ভাঙচুর ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। এর সঙ্গে গণমাধ্যমে সমাবেশের ব্যাপক প্রচারণায় দলটির নেতারা হতাশা প্রকাশ করছেন। ২৩ অক্টোবর খুলনা প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যই আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন সমাবেশ নিয়ে গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছেন।

এ অবস্থায় ভাঙচুরের ঘটনা আইনিভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় রাজনীতির মাঠ দখল রাখতে জনসভা সহ বড় কর্মসূচি দেওয়ার দাবি জানান দলটির নেতারা।

সভা শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে নতুন রাস্তা মোড়ে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১ ডিসেম্বর শহীদ হাদীস পার্কে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া ২ নভেম্বর সদর থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ৫ নভেম্বর সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ১১ নভেম্বর খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ১২ নভেম্বর খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। বর্ধিত সভায় দলকে সংগঠিত করার উপর বেশি জোর দেওয়া হবে।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন বিএনপি’র সমাবেশ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা জনসভা করে দেখাতে চাই জনগণ কাদের সঙ্গে আছে।

এদিকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন সমাবেশে দেওয়া বিএনপির নেতাদের উস্কানি এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব রাজনৈতিকভাবে দেওয়া হবে।
সেজন্য জনসভা সহ নানান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *