কালীগঞ্জ ইউনিয়ন ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের এলাকার বসতবাড়ি ও আবাদী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার

ইয়াছিন আলী ইমন
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

দুধকুমার নদের ভাঙনে বিলিন হচ্ছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম ফান্দের চর এলাকার বসতবাড়ি ও আবাদী জমি। গত ২ মাসে এ নদের ভাঙনে আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। ইতোমধ্যে রায়গঞ্জে অন্তত ১৬টি পরিবার হারিয়েছে তাদের ভিটেমাটি।কালীগঞ্জ ইউনিয়নয়ে অন্তত ৫০ টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। অনেকের বাড়ি ভাঙনের মুখে পড়ায় সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র।এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, বসতবাড়ি ও ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। একদিকে দুধকুমারের ডানতীর রক্ষার বাঁধ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও তা কচ্ছপ গতিতে এগুচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অপরদিকে বামতীরে দেখা দিয়েছে ভায়াবহ ভাঙ্গন। এ অবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার বাসীন্দারা। ভাঙন রক্ষায় দ্রত পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবার আসঙ্কায় রয়েছেন মাধাইখাল কুঠি ও কিছু ওয়াড অপর দিকে দামালগ্রামের ফান্দেরচর এলাকাবাসী।ওই এলাকার ভাঙ্গনের শিকার রুহুল আমিন, আব্দুল করিম, মাহাম আলী, সুজাব মন্ডল, মদিনা মিয়, আসমত আলি, মকবুল হোসেন,আরও অনেকে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই চরে বসবাস করে আাসছেন।অপর দিকে সুভাস চন্দ্র, রিদয় চন্দ্র সরকার, তিলক সরকার, জামাল আলী,আরও অনেকে বলেন। হঠাৎ করে দুধকুমার নদের ভাঙনে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে এখন বহু কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রতিদিন যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে এই গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন দিশাহারা তারা। খেয়ে না খেয়ে থাকলেও এখন কেউ খোঁজ খবরও রাখেন না তাদের। জাহির আলি, মতি মিয়া, ফরিদুল ইসলাম জানান,কালীগঞ্জ ইউনিয়নে তিলক সরকার ,সুবাস চন্দ্র বলেন গত কয়েকদিনে তাদের বসত ভিটাসহ গাছগাছালি নদের পেটে গেছে। এছাড়া আবাদী জমিও চলে গেছে নদের বুকে এখন তারা নিঃস্ব। অনেকে জানান নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি চলে গেছে সাথে চলে গেছে নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র। সকল প্রকার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বলেও জানান চরাঞ্চলের মানুষ।কুড়িগ্রাম পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে মূল ভূ-খন্ডের অংশে প্রকল্প কাজ চলমান থাকলেও তারা ধিরে ধিরে কাজ করে যাচ্ছে। এতে চরাঞ্চল রক্ষায় কোন প্রকল্প নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। তবে ওই চরাঞ্চলের জনগণের দাবীর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *