খুলনা নগরীতে দ্বিখন্ডিত লাশের আসামি আবুবক্কার স্বস্ত্রীক ঢাকা গাজীপুর থেকে গ্রেফতার

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

গত ৫ নভেম্বর গভীর রাতে খুলনা নগরীর কে ডি এ এ্যভিনিউতে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষ ঘটনার বিবরণ দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামি আবু বক্কার।

প্রাথমিক পর্যায়ে খন্ডিত লাশ আবু বক্কারের স্ত্রী হিসেবে ধারণা করা হলেও । আজ তার আসল পরিচয় পাওয়া গেছে আসামি আবু বক্কারের স্বীকারোক্তি থেকে। দ্বিখন্ডিত লাশের প্রকৃত নাম কবিতা। সে নগরীর প্রিন্স হসপিটাল এর সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার কুতের বিল। মৃত্যু কবিতা (২৯)
ঐ এলাকার জনৈক কালিপদ বাছারের মেয়ে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুবক্কার দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ খুলনা নগরীর কেডিএ এ্যভিনিউ রাজু খার বাড়িতে তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না কে নিয়ে একসঙ্গে থাকলেও স্বপ্না তার বিবাহিত স্ত্রী না।

র্্যবের কাছে দেওয়া তথ্যমতে জানা গেছে আবু বক্কার খুলনা প্রিন্স হসপিটাল এর সেবিকা কবিতার সাথে মাত্র ৫ দিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়।
অতঃপর গত ৫ নভেম্বর তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর একপর্যায়ে তাদের মধ্য বাকবিতণ্ডা হলে কোন এক মুহূর্তে কবিতাকে প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার পর তার দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন্য করে ।
এবং কবিতার মৃত্যু দেহ লুকিয়ে রাখার জন্য ঘরে থাকা বটি দিয়ে হাত পা বিচ্ছিন্ন করে একটি টিনের বাক্সের মধ্য আটকিয়ে রেখে সুকৌশলে কথিত স্ত্রী স্বপ্না কে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে গাজীপুরে গ্রেপ্তারের ভয়ের লুকিয়ে থাকে।

এদিকে গত ৬ নভেম্বর রবিবার খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ প্রশাসন মহলের সকল কর্মকর্তারা ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে খুলনার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গেলেও খুলনা র্্যবের একটি চৌকস দল তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা গাজীপুর থেকে আসামি আবু বক্কার ও তার কথিত স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্্যাব ব্যাটেলিয়ান বাহিনি।

আসামি কে গ্রেফতারের পর সারারাত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় লাশের খন্ডিত অংশগুলো কোথায়। এক পর্যায়ে আসামি আবুবক্কার তার স্বীকারোক্তিতে বলেন লাশের খন্ডিত হাতের কব্জি ও অন্যান্য অংশ পলিথিনে করে ঘরের সরু গলির মাথায় ২০ গজ দূরে একটি ড্রেনের মধ্য রাখা হয়েছে।
পরে আসামিকে ঘটনা স্থলে এনে বাকি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনার সার্বিক বিষয়ে ঘটনাস্থলের পাশে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন র‍্যাব ৬ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমদ। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন গ্রেফতার হওয়া আবু বক্কর তার কথিত স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে
১ নং গোবর চাকা ক্রস রোড রাজু খার বাড়িতে তিন বছর ধরে বসবাস করছে। স্বপ্না তার বিবাহিত স্ত্রী নন স্বামী স্ত্রীর পরিচয় ওই বাড়িতে তারা বসবাস করছে। কবিতা নগরীর প্রিন্স হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
৫ দিন পূর্বে ভিকটিম ও আবু বক্কর এর মধ্য পরিচয় হয়। পরিচয় এর সূত্রে তাদের মধ্য একাধিকবার কথা হয়েছে।
একপর্যায়ে আসামী ভিকটিমকে তার বাসা ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই রাতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্য বাদানুবাদ হয়।

এ সময়ে আসামি ভিকটিম কবিতাকে গলা নামিয়ে কথা বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু কবিতা সেটি না করে আরো উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে। উপায়ান্তর না পেয়ে আবু বক্কর তাকে শ্বাস রোধ করার জন্য নাক মুখ চেপে ধরে। পরে কবিতা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর রান্নাঘর থেকে বটি এনে লাশটি গুম করার জন্য ধারালো বটি দিয়ে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
মাথা পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখে পরে দু হাত কব্জি কেটে ফেলে। দেহের বাকি অংশ একটি বক্সে ঢুকিয়ে রাখে।

রাতে নিজেকে গোপন করার জন্য আবু বক্কর কথিত স্ত্রী স্বপ্না কে নিয়ে রূপসা নদী পার হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সে সময়ে আসামি স্বপ্নাকে হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। পুলিশের পাশাপাশি র্্যাব ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোববার রাতে আসামি আবু বক্কর এর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। রাতে তাকে ও তার কথিত স্ত্রীকে গাজীপুর জেলার বাসন থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *