কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখির তাল গাছ।

মোঃ রমজান আলীঃ ক্রাইম রিপোর্টার

একসময় সারি সারি তালগাছের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ত। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। তবে এমন দৃশ্য এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তালগাছের উপস্থিতি কমে গেছে। এখন গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে সারা দিন ঘুরে বেড়ালেও তালগাছের দেখা পাওয়া দুষ্কর।

তবে চোখ জুড়ানো এমন দৃশ্যের দেখা মেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার মুরুটিয়া টু রঘুনাথপুর গ্রামের সড়কে দেখা যায় তালগাছের চিত্র। এ সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর মনোমুগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমিদের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে।

ওই গ্রামের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ মানুষ ও পশু-পাখিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার লক্ষ্যে তালগাছের চারা রোপন করে। প্রায় ২০ বছর আগে লাগানো সেই তালগাছগুলো এখন বড় হওয়ায় সড়কটিতে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছ। যেন ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে।’

বজ্রপাত নিরোধক ও পরিবেশবান্ধব গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করছে। ইতোমধ্যে বড়ো হয়ে যাওয়া তালগাছ গুলো থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ফল আসারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নতুন করে ঘর বাঁধার চেষ্টা বাবুই পাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের । মাঝে মাঝে এই পাখিগুলোর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠছে পুরো এলাকা। সবুজ পাতার ছায়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছগুলো দৃষ্টিনন্দিত হয়ে ওঠছে। সেই সঙ্গে প্রকৃতিপ্রেমীরাও চিরায়ত গ্রামবাংলার এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

বলুহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, মুরুটিয়া সড়কের তালগাছগুলো যাতে করে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে এলাকা বাসীর সহযোগিতা পরিচর্যা করা হয়। আমি নিজেও গাছ গুলো দেখভাল করি। যেহেতু তালগাছ গুলো দাড়িয়ে গেছে বিলুপ্ত হাওয়ায় কোনো কারণ নেই।

উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসিন আলী জানান, তালগাছ বজ্রপাত নিরোধক ও পরিবেশবান্ধব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠে কৃষকের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে মানুষদের তালগাছ লাগানোর উদ্বুর্ধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় আমরা সাফদারপুর সড়ক, আমেরিকান জনগণের সহায়তা তৈরি কুশনা ইউনিয়নে আমেরিকান সড়কে নতুন করে তালের আঁটি রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *