তদন্তে নামছে দুদক খুলনায় ১০ প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :

দেশের বিভাগীয় শহর খুলনায় দশ প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১০ টি প্রকল্পের মধ্য কয়েকটি প্রকল্পের অফিসিয়াল প্রাক্কালি তো দর টেন্ডার এর আগেই ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ঠিকাদারকে জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।

এসব প্রকল্প গুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন জেলা শিল্প একাডেমী ভবন নির্মাণ প্রকল্প জেলা সমাজসেবা অফিস নির্মাণ প্রকল্প তিনটি থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প ৫০ টি পরিত্যক্ত ও ২০ কোয়াটার মেরামত করেন এবং অফিস মেরামত সংক্রান্ত প্রকল্প।
অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে গত ৮ নভেম্বর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে অনেক অভিযোগের এই প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। যে কারণে অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করতে যাচ্ছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক মোঃ আরিফ সাদেক বলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিত্যাক্ত ভবন ও কোয়াটার মেরামত দেখিয়ে কাজ না করে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এর অভিযোগের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযান কালে দুদক টিম নির্বাহী প্রকৌশল এর সঙ্গে অভিযোগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন এবং রেকর্ড পত্র সংগ্রহ করে। শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক সূত্রে আরো জানা যায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস সহ অন্যান্য প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য ক্ষমতার অপব্যবহার অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ না করে নিজেরা অর্থ আত্মসাৎসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকে জমা পড়ে। কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের 6 জুন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের উপপরিচালক কে চিঠি দেয় দুদকের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল।
ওই ছেলের চিঠিতে বলা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ না করে নিজেরা অর্থ আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সম্পর্কে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট শাখায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে গণপূর্ত খুলনা জোনাল অফিস ও প্রকল্প এলাকায় অভিযান চালানো হয়। দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয় গণপূর্ত বিভাগ ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান সহকর্ম রত ও অন্যান্য প্রকৌশলীরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তো খুলনা গণপূর্ত বিভাগকে দীর্ঘদিন যাবত লুটপাট করে খাচ্ছে। তারা ঘোষ ও কমিশন বাণিজ্যর অর্থের শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে। দুর্নীতির কয়েকটি ধরনের মধ্যপ্রধানটি হচ্ছে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ঘুষের বিনিময়ে অফিসিয়াল প্রাক্কলিত দর পছন্দের ঠিকাদারকে জানিয়ে দেওয়া। আরেকটি ধারণ হচ্ছে চলমান কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং সিডিউল মোতাবেক কাজ না করলেও ঘুষের বিনিময় নিম্নমানের কাজকে সঠিক দেখিয়ে বিল তুলে ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করা।
এছাড়া খুলনা মহানগরে গণপূর্ত বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন পরিত্যাক্ত ভবন এবং কোয়ার্টার মেরামতের নামে কোন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে ঢালাওভাবে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি ভুয়া। এর কোন সত্যতা নেই। এখানে আমার অধীনে ছাড়া ও প্রকল্প রয়েছে। সবগুলো প্রকল্পই আগের অভিযোগের ভিত্তি নেই। দুদক কাগজপত্র চেয়েছে সেগুলো দিয়েছি। বিষয়টি তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবে।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা প্রকল্প গুলো
খুলনা শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ এ দুর্নীতি খুলনা শিশু হাসপাতালের পাঁচ তলা উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারটি ই -জিপি পদ্ধতিতে হওয়ায় অফিশিয়াল প্রাক্কালে তো তার ঠিকাদারদের জানার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু শিশু হাসপাতালের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে ঘুষের বিনিময়ে প্রাকৃত মূল্য জানানো হয়েছে। এতে ওই টেন্ডার এ প্রতিযোগিতা না হওয়ার সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আইসিইউ স্থাপন :
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ বেড আইসোলেশন এবং ১০ বেড আই সি ইউ সি সি ইউ ইউনিটের নির্মাণের জন্য দুটি নোটে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ই-জিপি পদ্ধতিতে অফিশিয়াল প্রাক্কলিত মূল্য ঠিকাদারদের কখনো জানার সুযোগ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রেও টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে ঘুষের বিনিময়ে অফিসিয়াল প্রাক্কালেত মূল্য জানানো হয়েছে। এতে ওই টেন্ডার এ প্রতিযোগিতা না হয় সরকারের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণ প্রকল্প : খুলনা বিভাগীয় জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণ প্রকল্প : জেলা সমাজসেবা অফিস নির্মাণ প্রকল্প :
তিনটি থানা ভবন নির্মাণ : ৫০টি পরিত্যাক্ত ভবন মেরামতের অর্থ সম্পন্ন আত্মসাৎ : ২০ কোয়াটার মেরামতের অর্থ আত্মসাৎ । এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের ক্ষেত্রে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে দুদক মাঠে নামে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *