শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ দফায় দফায় সংঘর্ষ থানায় মামলা আটক ১।

আব্দুল গাফফার শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি।

বগুড়ার শেরপুরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় হামলা-ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পনেরজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগের দলীয় এমপি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমানের বাবার নামে গড়া সংগঠন মোজাহার আলী স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর করা হয়।সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ও বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা লিটন (৩২), কর্মী মোঃ সোহাগ হোসেন (২৬), মো. ফিরোজ (১৮), আব্দুস সালাম (২২) ও স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা রবিউল ইসলাম মিঠু (২৫)। এদিকে এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাসুদ রানা লিটন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহ কাওসার কলিন্স, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন, কৃষকদলের আহবায়ক আবু সাঈদসহ ৭২জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেককেই অজ্ঞাতনামা হিসেবেল অভিযুক্ত করে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসছে ০৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন। সেই সম্মেলনকে সফল করতে দলের সহযোগী সংগঠন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের উদ্যোগে বুধবার বিকেলে স্থানীয় দুবলাগাড়ী বাজার এলাকায় মতবিনিময়সভার আয়োজন করে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হাসপাতাল রোডস্থ মোজাহার আলী স্মৃতি সংসদের সামনে পৌঁছালে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পনেরজন আহত হন। হামলায় আহত শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা লিটন বলেন, আমরা চার থেকে পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবকলীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী মোজারহার আলী স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে বসে ছিলাম। এসময় কোনো কারণ ছাড়াই স্বেচ্ছাসেবকদলের মিছিল থেকে অসংখ্য লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেইসঙ্গে আমাদেরকে বেধড়ক মারপিট করেছেন। এমনকি একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং মোজাহার আলী স্মৃতি সংসদ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক শাহ কাওসার কলিন্স। তিনি বলেন, সমাবেশ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই ক্লাবের মধ্যে আগে থেকেই ওৎঁ পেতে থাকা সশস্ত্র সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা পেছন থেকে আমাদের মিছিলের ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি মারপিট করে আমাদের বেশকয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এমনকি এই ঘটনার জেরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এবং আমাদের সমাবেশস্থলে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। এছাড়া নিজেরাই ককটেল ফাটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলার এজারনামীয় একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *