বিবর্তন সমবায় সমিতির পরিচালক মাসুদের বিরুদ্ধে চা ব্যবসায়ীকে অপহরণের মামলা।

মোঃ রমজান আলীঃ ক্রাইম রিপোর্টার

ঝিনাইদহের হলিধানীতে বিবর্তন সমবায় সমিতির পরিচালক মাসুদের বিরুদ্ধে চা দোকানি রুবেলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ নভেম্বর) রাত ৮টার সময় হলিধানী বাজার থেকে চা দোকানী রুবেলকে জোরপূর্বক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বৈডাঙ্গা বাজারে নিয়ে যায় হয়। এ সময় রুবেলকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এই ঘটনায় ঝিনাইদহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রুবেল নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। যার অভিযোগ নাম্বার, (ঝিনাইদহ- সি আর/ ৮৩৩২২)। বাদী রুবেল সদর উপজেলার হলিধানী শেখ পাড়া গ্রামের মৃত আকরাম হোসেনের ছেলে ও হলিধানী বাজারের ক্ষুদ্র চায়ের দোকানদার।

অপহরণকারী মাসুদ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে এবং একই গ্রামের মনজের’র ছেলে মুন্না।

আদালতে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২১ নভেম্বর সোমবার রাত ৮টার সময় রুবেল চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ির দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় মাসুদ রুবেলকে দোকান থেকে নেমে আসতে বলে। তখন রুবেল তার কাছে গেলে জোর করে মোটরসাইকেলে টানাটানি করে তুলে বৈডাঙ্গা বাজারের দিকে রওনা হয়। বৈডাঙ্গা বাজারের ছাগল হাটের পূর্বপাশে তাকে একটি মেহগুলি বাগানে নিয়ে মারধর করতে থাকে। সেময় মাসুদ রুবেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হুমকি দেয় এবং খুন করে লাশ গুম করার ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মাছুদ ১শ টাকা মূল্যের ৩টি ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে জোর করে খুনের ভয়-ভীতি দেখিয়া স্বাক্ষর করে নেয়। সে সময় ওখানে আরো ৪-৫ জন উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরো জানা যায়, মাসুদ বিবর্তন সমবায় সমিতি (লাইসেন্স নাম্বার -৩৬)’র নামে সুদের ব্যবসা করে আসছে। রুবেল চায়ের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বেশকিছুদিন আগে ১৯ হাজার টাকা প্রতিদিন কিস্তিতে ঋণ নেয়। সেই ১৯ হাজার টাকার পরিবর্তে সে মাসুদকে সুদসহ ২৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু মাসুদ রুবেলের কাছে আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। যা রুবেল দিতে অস্বীকার করেন। এমন অবস্থায় মাসুদ রুবেলের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে, জোরপূর্বক রুবেলের থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেই এবং মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হলে বৈডাঙ্গা বাজারে রুবেলের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

উল্লেখ্য, ২৮ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় মাছুদ রুবেলের দোকানে তালা মেরে দেয়। তখন রুবেল ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাতলামারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ বনি- আমিন
রুবেলের দোকানের তালা খুলে চাবিসহ তালা হলিধানী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাখেন। সেই অপমান সইতে না পেরেই মাসুদ অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপহরণের ব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুদ জানান, আমরা কাউকে অপহরণ করি নাই। চা দোকানি রুবেলের কাছে আমি টাকা পাই। টাকা না দিয়ে সে বিভিন্ন তাল-বাহানা করতে থাকে। তবে বৈ-ডাঙ্গা বাজারের কিছু লোক রুবেলের কাছে টাকা পাই। তাদের স্টাম্প করা আছে। ওরাই ওকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। ওই স্টাম্পের ৩ নাম্বর স্বাক্ষী হিসেবে তারা ফোন দিলে আমিও সেখান উপস্থিত হই। তার থেকে জোর করে কোনো স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়নি এবং ভিডিও ধারণ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *