অবিলম্বে সকল জুট স্পিনার্স মালিকদের শ্রমিক বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে: শ্রম আদালত!!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চিফ :

খুলনা জুট স্পিনার্স শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের তাগিদ এর বিষয় টি দীর্ঘদিন যাবৎ টানপরণের মধ্য দিয়ে থাকলেও এক পর্যায়ে খুলনা বিভাগীয় শ্রম আদালত বরাবর পাওনা বঞ্চিত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে শ্রম আদালতের ঊর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গন একটু নড়েচড়ে বসেছেন। এবং সকল জুট স্পিনার্স মালিকদের তাগিদ দিয়েছেন সকল শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের জন্য।

বিষয়টি অভিযোগ করেন জুট স্পিনার্সের ব্যাচিং বিভাগের শ্রমিক মুজিবুর রহমান তার চূড়ান্ত পাওনা আশ্রম আইন মোতাবেক না পেয়ে খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক এর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় মজিবুর রহমান জুট স্পিনার্স মিলের ব্যাচিং বিভাগের খ পালার ক্লিনার পদে একজন শ্রমিক হিসেবে ১৯৯৮ সালে যোগদান করে ১৯৯৮ সালে স্থায়ী হয়। গেল ২০১৬ সালে মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে মিল মালিকের নিকট তার ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৪ টি সার্ভিস পাওনা রয়েছে। এবং তার প্রায় তিন বছরের সার্ভিস ছুটির ২০১৬ সালের পর থেকে বোনাস সার্ভিস ছুটি মেডিকেল ছুটি ক্যাজুয়াল এবং ৩৮ সপ্তাহের বিল পাওনা রয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে মিলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত কল্যাণ তহবিল হিসাবে প্রতি সপ্তাহে ১৫ টাকা করে কর্তন করে মিল কর্তৃপক্ষ। উক্ত টাকা ও সে ফেরৎ পায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করে। এছাড়া দুটি ঈদের বোনাস প্রতিটি সার্ভিসের দুটি গ্রাইচুটি থাকলেও একটি গ্রাইচুটি কম দিতে চায় মালিকপক্ষ এদিকে শ্রম আইন অনুযায়ী মালিক টাকা পরিশোধ না করে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে তাদের হিসাব অনুযায়ী টাকা দিতে চাইলে মিল শ্রমিক মুজিবর রহমান সে টাকা নিয়ে শ্রম অধিদপ্তরে তার পাওনা টাকা বুঝে পাওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে মজিবুর রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান গত ২২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জুট স্পিনার্স মালিক কর্তৃপক্ষকে মিলের শ্রমিক মুজিবুর রহমানকে প্রতিবছরের চাকরির জন্য বেটার পরিবর্তে দুটি করে গ্রাচু্ইটি প্রাপ্যতা হিসাব করে তার চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ করে শ্রম দপ্তরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকল শিল্প সেক্টর এর জন্য সরকার কর্তৃক ২০১৩ সালের ২২ মে ঘোষিত নিন্মতম মজুরির গেজেটে মজুরি এবং অন্যান্য পাওনা দিয়ে নির্ধারণের ১০ নং শর্ত হল তফসিলে উল্লেখিত নিম্নতম মজুরি ও বিভিন্ন ভাতাদি ছাড়াও শ্রমিক ও কর্মচারীগণ কর্মরত প্রতিষ্ঠানের উৎসব ভাতা ও গ্রাইচুটি সহ অন্যান্য যে সকল সুযোগ সুবিধা ও ভাতা পেয়ে থাকেন তা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ ধারা ৩৩৬ এর বিধান মোতাবেক বলবৎ ও অব্যাহত থাকবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন পাট শিল্প সেক্টরের জন্য সরকার কতৃক ২০১৩ সালের ২২ মে ঘোষিত নিন্মতর গেজেটের ১০ নং শর্ত এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ ধারা ৩৩৬ এর বিধান মতে শ্রমিক কর্মচারীদের ভোগকৃত অধিকার বা সুযোগ সুবিধা ব্যাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন শুধু জুট স্পিনার্স না বেসরকারি সকল জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের শ্রম আইন মোতাবেক তাদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ করতে হবে যদি কোন মালিক কারোর প্ররোচনায় পড়ে শ্রমিক ঠকানোর চিন্তা করে তাহলে অবশ্যই সে মালিককে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *