বৃহস্পতিবার – ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া থানা হানাদার মুক্ত দিবস

সরদার রইচ উদ্দিন টিপু, জেলাপ্রতিনিধি (নড়াইল)

আজ (বৃহস্পতিবার -৮ ডিসেম্বর ) লোহাগড়া থানা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে ৮ নং সেক্টরের অধীনে লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানাকে পাক হানাদার মুক্ত করে উড়িয়েছিলেন বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। কিন্তু, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মহান স্বাধীনতার পর আজও পর্যন্ত্ম লোহাগড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত হয় নাই কোন স্মৃতি স্ত্মম্ভ। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত লোহাগড়া আজও অরক্ষিত ও অবহেলিত।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়া ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। মধ্য নভেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা সমগ্র উত্তর অঞ্চল শত্রম্নমুক্ত করে। এর পর মুক্তিযোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার লক্ষ্ণীপাশায় অবস্থিত থানা আক্রমনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহন করেন। ৮ ডিসেম্বর ফজরের আযানের পর ভোর ৫ টার দিকে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, থানা মুজিব বাহিনীর প্রধান সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ খসরম্নজ্জামান, আবুল হোসেন খোকন, কবির হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দু’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিপুল পরিমান অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গেরিলা কায়দায় পশ্চিম দিক দিয়ে থানা আক্রমন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত আক্রমনে হতচকিয়ে পড়ে পাক বাহিনীর রেঞ্জার সদস্যরা। এ সময় থানায় অবস্থানরত রেঞ্জার বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র গোলা বারুদ ফেলে থানার পূর্ব দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। শুরম্ন হয় মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ। ৫ ঘন্টা ব্যাপী এ যুদ্ধ চলাকালে থানা অভ্যন্তরে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গল-বাঁধাল গ্রামের মোস্ত্মফা কামাল।

প্রসঙ্গতঃ উলেস্নখ্য যে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে লোহাগড়া থানা চত্বরে কবর দেওয়া হয় আর মোস্ত্মফা কামালকে ইতনা স্কুল চত্বরে কবর দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে তৎকালীন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সহ সূধী মহলের সহযোগিতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের কবরটি টাইলস্‌ দিয়ে বাঁধানো হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্ত্মফা কামালের কবরটি ইতনা স্কুল চত্বরে রয়েছে।

থানা আক্রমনের সময় মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করে কুখ্যাত রাজাকার ও পুলিশ সদস্য খালেক ও নড়াইলের আশরাফ রাজাকার সহ প্রায় ২০ জন মানুষকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয় ১০ জন পুলিশ সহ ২২ জন রাজাকার। মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারম্নদ উদ্ধার করে নিজেদের আয়ত্বে আনেন। থানা হানাদার মুক্ত হওয়ার খবরে উলস্ন্ল্লসিত মানুষজন স্বতস্ফুর্তভাবে আনন্দ মিছিল করে রাস্ত্মায় নেমে আসে। এর পর ৮ ডিসেম্বর সারা দিনই লোহাগড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় জনতা বিজয় মিছিল করে।

লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সহকারী কমান্ডার আব্দুল হামিদ বলেন, লোহাগড়া থানা মুক্ত দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পতাকা উত্তোলন,র্ যালি, আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় উপস্হিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সিকদার আব্দুর হান্নান রুনু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজগর উপজেলা, সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রদীপ্ত রায় দীপন,ওসি লোহাগড়া মোঃ নাসির উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার এম এম কবির,সাবেক জেলা ডেপুটি কমান্ডার শামছুল আলম কচি সহ শত শত মুক্তি যোদ্ধা সহ রাজনৈতিক নেত্রী বৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *